নইন আবু নাঈম তালুকদার শরণখোলা থেকেঃ
বাগেরহাটের শরণখোলায় ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে স্কাবিস,অ্যালার্জি,চুলকানী ও দাদ,একজিমার মতো অসহ্যকর ছোঁয়াচে চর্মরোগ। শিশু থেকে বয়স্করা সবাই কম বেশি আক্রান্ত হয় হয়ে পড়েছে চর্ম রোগে।
উপজেলার রাজাপুর,আমড়াগাছিয়া,তাফালবাড়ি,বাংলা বাজার, খোন্তাকাটা , ধানসাগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে চর্ম রোগ এখন বেশ কিছু মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হচ্ছে।
কথা হয় রায়েন্দা ইউনিয়নের কদমতলা স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মিম আক্তার (১২) ,একই এলাকার সামছুন্নাহার বেগম (৬০),মুন্নি আক্তার (৪০),ফেরদৌসী বেগম (৪২),শাহী মোহাম্মদ (১৫) সহ একাধিক নারী ও শিশুদের সাথে কথা বললে তারা জানান গত এক বছরে বেশি সময় ধরে তারা বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এজন্য তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ফ্লুকোনাজল,ইট্রাকোনাজলসহ বিভিন্ন ক্রিম ব্যবহার করেছেন। তাতে কিছুদিন ভাল থাকলেও পরবর্তীতে আবার নতুন করে দেখা দিচ্ছে। শরণখোলা উপজেলার হাসপাতাল গেটের ব্যবসায়ী ও আল মদিনা ফার্মেসীর মালিক মো: রিয়াজ মাহমুদ সোহাগ বলেন,প্রতিদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বেশিরভাগ মানুষই চর্মরোগে আক্রান্ত রোগী।
ফার্মেসী ব্যবসায়ী ও হেনা ফার্মেসীর মালিক নাজমুল হুদা বলেন,চুলকানি বা চর্মরোগ এখন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন এই রোগ নিয়ে ওষুধ কিনতে আসা বেশিরভাগই হচ্ছে নারী ও শিশু।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও বিভিন্ন ক্লিনিকে কর্মরত একাধিক চিকিৎসকরা বলেন, চিকিৎসা নিতে আসা মানুষেরই শরীরেই এলার্জি চুলকানির ইদানিং একটু বেশি দেখা যাচ্ছে। যা একজন থেকে অন্যজনের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
শরণখোলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস বলেন,বর্তমানে উপকূলীয় এলাকা শরণখোলায় নদী ও পুকুরের পানি ব্যবহার করায় চর্মরোগের পরিমানটা অনেক বেড়েগেছে। বিশেষ করে খোসপাঁচড়া ও দাদ জাতীয় এসব ছোঁয়াচে রোগ। যা একজনের শরীর থেকে অন্যজনকে আক্রান্ত করছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে চর্ম রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩০%। তবে পরিবারে একজন যদি এই রোগে আক্রান্ত হয় তাহলে দেখা যায় বাকি সদস্যদের শরীরেও হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অনেকে আছেন,কয়েকদিন ওষুধ খেয়ে মোটামুটি ভাল হয়েছেন এরপর ওষুধ খাওয়া বন্ধ কর দেয়। তাই পরিবারে একজনের হলে বাকি সবারই চিকিৎসা নিতে হবে। এছাড়া ব্যবহৃত সবধরনের কাপড় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।


