এসএম সানোয়ারঃ-ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৫২ নং ওয়ার্ডের বাউনিয়া বটতলা থেকে ইবরাহিম মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ সড়কটির সংস্কারকাজ স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে বাদালদি ছয়তলা মোড় এলাকায় এসে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ২৫–৩০ হাজার মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ হচ্ছে এ সড়ক। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জোরপূর্বক কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার জুমার নামাজের পর এলাকাবাসী মানববন্ধন করে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
১৭ বছরে কোনো উন্নয়ন নেই: ক্ষোভ এলাকাবাসীর
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিমানবন্দরের নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হওয়া সত্ত্বেও গত ১৭ বছরে কোনো উন্নয়ন হয়নি। ভোটের আগে বিভিন্ন প্রার্থী উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে কেউ তা পালন করেননি।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সড়ক সংস্কার শুরু হলে আনন্দিত হন এলাকাবাসী। কিন্তু এলাকার দুই-তিনটি ক্ষুদ্র গার্মেন্টস কারখানার স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এবং স্থানীয় কয়েকজন নামধারী বিএনপি নেতাকে সম্পৃক্ত করে, পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সড়কের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আব্দুল হাকিমের বক্তব্য
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল হাকিম বলেন—
“এই রাস্তা আমাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। প্রায় ২৫-৩০ হাজার মানুষ বহু বছর ধরে এই পথ ব্যবহার করছে। আইন অনুযায়ী—বিশেষ করে Easement Act-১৮৮২—জনগণের অত্যাবশ্যক পথাধিকার রয়েছে। জনগণের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা কোনোভাবেই বন্ধ করা যায় না।
কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থকে বড় করে দেখাতে গিয়ে পুরো এলাকার মানুষের জীবনকে কষ্টের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে কাজ বন্ধ করানো অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বেআইনি।
আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—জনগণের স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। একটি গার্মেন্টসের সাময়িক অসুবিধার কারণে ৩০ হাজার মানুষের প্রধান চলাচলের পথ বন্ধ রাখা যায় না। স্থানীয়দের দাবি ও জনস্বার্থ বিবেচনা করে যেন অবিলম্বে রাস্তার কাজ পুনরায় শুরু করা হয়। সরকার ও সিটি কর্পোরেশনের কাছে আমাদের এটা দাবি নয়—এটা ন্যায্য অধিকার।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রীয় ইজমেন্ট আইনের আওতায় জনগণের চলাচলের স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। তাই এ ধরনের জনপথ হঠাৎ করে বন্ধ করা আইনগতভাবেও সঠিক নয়।
স্বানীয় নেতা সাইফুল ইসলামের বক্তব্য
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম বলেন—
“আমরা সাধারণ মানুষ। এই এলাকার প্রতিটি পরিবার এই রাস্তাটির উপর নির্ভর করে। স্কুল–কলেজে যাওয়া, অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নেওয়া, কর্মজীবী মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াত—সবকিছুর জন্য এটাই একমাত্র ভরসার পথ। এই রাস্তাটি হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়ায় পুরো এলাকা যেন অচল হয়ে পড়েছে।
১৭ বছর ধরে এখানে কোনো উন্নয়ন হয়নি। যখন অবশেষে বর্তমান সরকার রাস্তার কাজ শুরু করলো, আমরা নতুন করে আশা পেয়েছিলাম। কিন্তু কিছু ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে—এটা মেনে নেওয়া যায় না। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার নামে হাজারো মানুষের কষ্ট চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই ন্যায্য নয়।
আমরা সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি—এই সড়কটি যেন অবিলম্বে উন্মুক্ত করা হয় এবং কাজ পুনরায় শুরু করা হয়। জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিলে এই সমস্যার সমাধান খুবই সহজ। আমাদের একটাই দাবি: মানুষের যাতায়াতের পথ খুলে দিন, উন্নয়নকাজ চালু রাখুন।”
ভূমি বাণিজ্যের প্রভাবের আশঙ্কা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার পেছনে প্রশাসনিক জটিলতা, পরিকল্পনার সমন্বয়হীনতা এবং সম্ভাব্য রাস্তা বাণিজ্যের প্রভাব থাকতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর দাবি
সড়ক সংস্কারকাজ অবিলম্বে পুনরায় শুরু করতে হবে জনগণের চলাচলের স্বার্থে পথটি উন্মুক্ত রাখতে হবে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে দ্রুত সমাধান দিতে হবে
এলাকাবাসী মানবিক বিবেচনায় সরকারের, সিটি কর্পোরেশনের এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।










